News update
  • সারাদেশে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ে শিক্ষকদের সম্মানি পর্যায়ক্রমে বাড়ানো হবে : প্রধানমন্ত্রী     |     
  • বরগুনার সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরে দুই ট্রলার ডুবি, ১৬ জেলে উদ্ধার, নিখোঁজ ২     |     
  • সারাদেশের সরকারি প্রাথমিকে রোপণ হবে প্রায় ২ লাখ চারা      |     
  • মালয়েশিয়াগামী কর্মীদের আগাম অর্থ লেনদেন না করার অনুরোধ মন্ত্রণালয়ের      |     
  • গ্যাস উৎপাদন বাড়াতে বহুমুখী উদ্যোগ নিয়েছে সরকার : জ্বালানি মন্ত্রী     |     
অর্থ ও বাণিজ্য 2026-07-08, 6:27pm

ইসলামী ও প্রচলিত বীমা: নীতি, কাঠামো ও কার্যক্রমে মৌলিক পার্থক্য

south-asia-c5f4c53633ff009eae3407eb9cb4d26d1783513649.jpg


ব্যাংকিং খাতের পাশাপাশি বীমা শিল্পও একটি দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সাধারণ বীমা ও জীবন বীমা দীর্ঘদিন ধরে ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার অন্যতম মাধ্যম হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। এ ব্যবস্থার পাশাপাশি বর্তমানে ইসলামী বীমা বা তাকাফুলও দেশে ও বিদেশে ক্রমেই বিস্তৃত হচ্ছে।

লেখক মুহাম্মদ নুরুল আলম চৌধুরী (ফেরদৌস) তার এক নিবন্ধে উল্লেখ করেছেন, প্রাচীনকাল থেকেই ব্যবসা-বাণিজ্যে ঝুঁকি মোকাবিলায় বিভিন্ন ধরনের পারস্পরিক সহযোগিতামূলক ব্যবস্থা প্রচলিত ছিল। ইসলামের আবির্ভাবের পর মুসলিম বণিকদের মধ্যে যৌথ তহবিল গঠনের মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের সহায়তা দেওয়ার যে প্রথা গড়ে ওঠে, সেটিকেই ইসলামী বীমা ব্যবস্থার প্রাথমিক ভিত্তি হিসেবে বিবেচনা করা হয়। নৌপথে ব্যবসা পরিচালনার সময় কোনো ব্যবসায়ী দুর্ঘটনা বা লোকসানের শিকার হলে ওই তহবিল থেকে তাকে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হতো, যা ব্যবসা পুনর্গঠন ও ক্ষতি লাঘবে সহায়ক ছিল।

নিবন্ধে বলা হয়, বর্তমানে শুধু মুসলিম দেশেই নয়, বিভিন্ন অমুসলিম দেশেও ইসলামী বীমা ব্যবস্থা চালু রয়েছে। বাংলাদেশেও প্রচলিত বীমার পাশাপাশি ইসলামী বীমা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে এবং এর সম্প্রসারণ অব্যাহত রয়েছে। লেখকের মতে, দেশে আরও আগে ইসলামী বীমা চালু হলে তা আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে আরও বড় ভূমিকা রাখতে পারত। একই সঙ্গে বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ) ইসলামী বীমার জন্য নতুন আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে, যা এ খাতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

নিবন্ধে ইসলামী ও প্রচলিত বীমার মধ্যে কয়েকটি মৌলিক পার্থক্য তুলে ধরা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, ইসলামী বীমা শরিয়াহভিত্তিক নীতিমালা অনুসারে পরিচালিত হলেও প্রচলিত বীমায় এ ধরনের বাধ্যবাধকতা নেই। ইসলামী বীমার মূল লক্ষ্য পারস্পরিক সহযোগিতা ও কল্যাণ নিশ্চিত করা, যেখানে প্রচলিত বীমায় মুনাফা অর্জনকে প্রধান উদ্দেশ্য হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

এছাড়া ইসলামী বীমায় সুদভিত্তিক লেনদেন ও বিনিয়োগ পরিহার করা হয়, পক্ষগুলোর মধ্যে অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে কার্যক্রম পরিচালিত হয় এবং মুদারাবা নীতির আলোকে লাভ-লোকসান বণ্টনের ব্যবস্থা থাকে। অন্যদিকে প্রচলিত বীমায় এ ধরনের কাঠামো অনুসরণ করা হয় না বলে নিবন্ধে উল্লেখ করা হয়েছে।

নিবন্ধে আরও বলা হয়েছে, ইসলামী বীমা ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয় এবং বীমা চুক্তিতে ঘারার (অনিশ্চয়তা) বা জুয়ার উপাদান পরিহারের চেষ্টা করা হয়। পাশাপাশি যাকাত বা সাদাকা তহবিল গঠনের ব্যবস্থাও রাখা হয়। শরিয়াহসম্মত কার্যক্রম নিশ্চিত করতে ইসলামী বীমা প্রতিষ্ঠানে পৃথক শরিয়াহ কাউন্সিল গঠন করা হয়, যেখানে প্রচলিত বীমায় এমন কোনো কাঠামো নেই।

লেখকের মতে, ইসলামী বীমায় অংশগ্রহণকারীরা সমবায়ভিত্তিক ব্যবস্থার মাধ্যমে সম্পৃক্ত থাকায় লাভ-লোকসানের অংশীদার হন এবং এতে উদ্যোক্তা ও পলিসিধারীদের মধ্যে অংশীদারিত্বের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এর ফলে প্রিমিয়ামের অর্থ তহবিলে সঞ্চিত হয়ে বিনিয়োগের সুযোগ সৃষ্টি করে, যা আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে পারে।

নিবন্ধে আরও বলা হয়েছে, ইসলামী ন্যায়নীতির ভিত্তিতে পরিচালিত বীমা ব্যবস্থায় অর্জিত মুনাফা শেয়ারহোল্ডার ও পলিসিধারীদের মধ্যে বণ্টনের সুযোগ থাকায় সম্পদের সুষম বণ্টন নিশ্চিত হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়। এ কারণে ইসলামী শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংক ও বীমা প্রতিষ্ঠানের প্রসার আধুনিক বিশ্ব অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে সক্ষম বলে লেখক মত প্রকাশ করেছেন।