News update
  • চট্টগ্রামে পানির নিচে রেললাইন     |     
  • আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশ নিতে আগ্রহী     |     
  • স্থানীয় সরকার নির্বাচনের সময় জানালেন তথ্য উপদেষ্টা     |     
  • বসবাস অনুপযোগী’ শহরের তালিকায় তৃতীয় ঢাকা     |     
  • ন্যায়বিচার নিশ্চিত করাই সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার: চিফ হুইপ     |     
প্রথম পাতা 2026-07-04, 7:35pm

চীনের অর্থনৈতিক করিডোর প্রস্তাব ইতিবাচক হিসেবে নিয়েছে সরকার

001-dc5c7986daef50c1e02ab09b442ee34f1783172158.jpg

ছবি: সংগৃহীত


ঢাকা, ৪ জুলাই, ২০২৬ (বঙ্গলোক ডেস্ক) 
বাংলাদেশ থেকে মিয়ানমার হয়ে চীন পর্যন্ত একটি নতুন অর্থনৈতিক করিডোর গড়ে তোলার প্রস্তাবকে প্রাথমিকভাবে ইতিবাচক হিসেবে নিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাম্প্রতিক চীন সফরকালে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এই ভূ-রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক করিডোরের প্রস্তাব দেন। যদিও সরকার এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি এবং এটি পর্যালোচনাধীন রয়েছে, তবে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও বাণিজ্য সম্প্রসারণে একে অত্যন্ত সম্ভাবনাময় মনে করা হচ্ছে।
চীনের পক্ষ থেকে প্রস্তাবিত এই অর্থনৈতিক ও যোগাযোগ রুটটি তিনটি দেশকে সংযুক্ত করবে। চীনের ইউনান প্রদেশের রাজধানী কুনমিং থেকে এই করিডোর শুরু হবে। কুনমিং থেকে মিয়ানমারের মান্দালয় হয়ে এর একটি অংশ ইয়াঙ্গন এবং অন্য অংশ রাখাইন রাজ্যের কিয়াউকপিউ গভীর সমুদ্রবন্দর পর্যন্ত বিস্তৃত হবে।
মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে সড়ক ও রেল নেটওয়ার্কের মাধ্যমে এটি বাংলাদেশের কক্সবাজার ও চট্টগ্রামের সাথে যুক্ত হবে। সরকার ও অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই করিডোরে যুক্ত হলে বাংলাদেশ বহুমুখী সুবিধা পাবে। করিডোরটি কার্যকর হলে বাংলাদেশের বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোতে চীনের বিনিয়োগ উল্লেখযোগ্য হারে বাড়বে। চীনসহ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিশাল বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের প্রবেশাধিকার অনেক সহজ হবে। সরাসরি সড়ক ও রেল যোগাযোগ স্থাপনের ফলে পণ্য পরিবহনের সময় এবং খরচ উভয়ই বিপুল পরিমাণে কমে আসবে।
দেশের 'মাল্টিমোডাল ট্রান্সপোর্টেশন' বা বহুমুখী যোগাযোগ অবকাঠামো আরও শক্তিশালী হবে। প্রস্তাবটি ইতিবাচক হলেও এটি বাস্তবায়নে বেশ কিছু অভ্যন্তরীণ ও ভূ-রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ দেখছেন কূটনীতি বিশ্লেষকরা। 
করিডোরের একটি বড় অংশ যাবে মিয়ানমারের ভেতর দিয়ে। বর্তমানে মিয়ানমারের জান্তা সরকারের সাথে বিদ্রোহী 'আরাকান আর্মি'র তীব্র সংঘাত চলছে। বিশেষ করে বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী রাখাইন অঞ্চলের অস্থিতিশীলতা এই প্রকল্পের নিরাপত্তার জন্য সবচেয়ে বড় হুমকি। দীর্ঘদিনের রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধান না হওয়া এবং মিয়ানমারের সাথে বিদ্যমান কূটনৈতিক দূরত্ব আরেকটি বড় বাধা।
অতীতে একই ধরনের একটি উদ্যোগ (BCIM করিডোর—বাংলাদেশ, চীন, ভারত, মিয়ানমার) ভারতের আপত্তির কারণে এগোয়নি। এবার ভারতকে বাদ দিয়ে চীন এই নতুন প্রস্তাব দেওয়ায়, ভারতের সাথে কূটনৈতিক ভারসাম্য রক্ষা করা বাংলাদেশের জন্য একটি বড় পরীক্ষা হবে।বাংলাদেশ সরকারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশের সার্বিক জাতীয় স্বার্থ এবং সার্বভৌমত্ব অক্ষুণ্ণ রেখেই এই অর্থনৈতিক করিডোরের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।