News update
  • পরীক্ষা জালিয়াতি রোধে কঠোর শাস্তি, পাবলিক পরীক্ষা আইন সংশোধন বিল পাস     |     
  • স্বাস্থ্য খাতের ঘাটতি চিহ্নিত করে তা সমাধানে কাজ করছে সরকার : ডা. জুবাইদা রহমান     |     
  • গণতন্ত্র শক্তিশালী করতে সহযোগিতার আশ্বাস যুক্তরাজ্যের     |     
  • বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর গ্রীষ্মকালীন মহড়া পরিদর্শনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান     |     
  • চট্টগ্রামে পানির নিচে রেললাইন     |     
নগর-মহানগর 2026-06-30, 7:11pm

মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনার তদন্ত দাবি পেশাজীবী মানবাধিকার পরিষদের

whatsapp-image-2026-06-30-at-6-5cb8866e680dcbb74dee4c6387c5fbbe1782825086.jpeg


পেশাজীবী মানবাধিকার পরিষদের আহ্বায়ক ডা. মো. জামাল উদ্দিন চৌধুরী, কো-আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. এম. অহিদুজ্জামান এবং সদস্য সচিব কৃষিবিদ এম এম মিজানুর রহমান এক বিবৃতিতে দেশে বিভিন্ন মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

বিবৃতিতে তারা বলেন, পেশাজীবী মানবাধিকার পরিষদ বাংলাদেশের স্বাধীনতা, মুক্তিযুদ্ধ ও অসাম্প্রদায়িক চেতনাকে ধারণ করে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিভিন্ন ঘটনা জনগণ, সংশ্লিষ্ট সরকার ও আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের কাছে তুলে ধরা এবং এসব ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবিতে কাজ করে আসছে।

তাদের দাবি, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে ড. ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় সংঘটিত বিভিন্ন মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা তাদের নজরে এসেছে। তারা অভিযোগ করেন, সংবিধানে স্বীকৃত মতপ্রকাশের স্বাধীনতা লঙ্ঘন করে মব সন্ত্রাসের মাধ্যমে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজ ও স্কুলের শিক্ষকদের স্থায়ীভাবে চাকরিচ্যুত, সাময়িক বরখাস্ত ও একাডেমিক কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। এছাড়া সাংবাদিক ও গণমাধ্যমকর্মীদের বিরুদ্ধে তথ্য-প্রমাণ ছাড়াই গ্রেপ্তার, চাকরিচ্যুতি, নির্যাতন, মামলা ও মব সন্ত্রাসের অভিযোগও তারা উত্থাপন করেন।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, প্রকৌশলী, কৃষিবিদ ও চিকিৎসকদের চাকরিচ্যুতি, গ্রেপ্তার ও হয়রানি, আইনজীবীদের স্বাধীনভাবে পেশা পরিচালনায় বাধা, গ্রেপ্তার এবং শিল্পী-সাহিত্যিকদের বিরুদ্ধে অন্যায় গ্রেপ্তার ও হয়রানিমূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে পেশাজীবীদের মধ্যে ভীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে, যা মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন বলে তারা মনে করেন।

পেশাজীবী নেতারা বলেন, এ ধরনের কর্মকাণ্ড মানবাধিকারের প্রতি হুমকিস্বরূপ। একই সঙ্গে তারা সাবেক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়, বর্তমানে বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিসিন বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. এ বি এম আব্দুল্লাহর ইমেরিটাস অধ্যাপক (আজীবন) পদে নিয়োগ বাতিল এবং ২০২৪ সালের ২০ জুন থেকে প্রাপ্ত বেতন-ভাতা ফেরত দেওয়ার নির্দেশের সমালোচনা করেন। তাদের মতে, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন এ চিকিৎসকের যথাযথ সম্মান ও মর্যাদা রক্ষা রাষ্ট্রের দায়িত্ব এবং তাঁর ইমেরিটাস নিয়োগ বাতিল মানবাধিকারের প্রতি স্পষ্ট হস্তক্ষেপ ও অমানবিক।

বিবৃতিতে সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১৫(ক) ও ১৮-এর উল্লেখ করে তারা বলেন, অন্ন, বস্ত্র, আশ্রয়, শিক্ষা ও চিকিৎসাসহ জীবনধারণের মৌলিক উপকরণ নিশ্চিত করা এবং জনস্বাস্থ্যের উন্নয়ন রাষ্ট্রের দায়িত্ব। তাদের অভিযোগ, ড. ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকার প্রচলিত নিয়মে হামের টিকা আমদানি না করায় সংবিধান স্বীকৃত চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হয়েছে। এর ফলে সারা দেশে ৭০০-এর বেশি শিশুর মৃত্যু এবং লক্ষাধিক শিশু হামে আক্রান্ত হয়েছে বলে তারা দাবি করেন। তাদের মতে, এটি মানবাধিকার লঙ্ঘনের একটি স্পষ্ট উদাহরণ।

বিবৃতিতে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যের উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়, গত ২২ জুন তুরাগ থানা এলাকায় একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক সংগঠনের সাত নেতাকর্মী নিখোঁজ হওয়ার দাবি প্রকাশিত হয়েছে এবং তাদের হত্যা করে তুরাগ নদীতে ফেলে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ বিষয়ে বাংলাদেশ পুলিশের ব্যাখ্যা বিভ্রান্তির সৃষ্টি করেছে উল্লেখ করে তারা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনার দাবি জানান।

এছাড়া তারা অভিযোগ করেন, সারা দেশে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা লঙ্ঘন করে মব কালচারের মাধ্যমে নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে এবং বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে। বর্তমান সরকারের সময়েও এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি হচ্ছে বলে তারা উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

বিবৃতির শেষে পেশাজীবী মানবাধিকার পরিষদ আশা প্রকাশ করে, বর্তমান সরকার উল্লিখিত মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনাগুলোর যথাযথ তদন্ত সম্পন্ন করে দোষীদের আইনের আওতায় আনবে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।