
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ৭৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ৭৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে অস্ট্রেলিয়া আওয়ামী লীগের উদ্যোগে গত ২৮ জুন ২০২৬ তারিখে সিডনির লাকেম্বায় এক আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক সন্ধ্যার আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে অস্ট্রেলিয়ায় বসবাসরত আওয়ামী লীগ এবং এর সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী, সমর্থক ও প্রবাসী বাংলাদেশি অংশগ্রহণ করেন। উৎসবমুখর পরিবেশে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের স্বাধীনতা, গণতন্ত্র এবং উন্নয়নের বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশের সাবেক সংসদ সদস্য ও সাবেক হুইপ অ্যাডভোকেট সানজিদা খানম। সভাপতিত্ব করেন বিশিষ্ট আইনজীবী ও অস্ট্রেলিয়া আওয়ামী লীগের সভাপতি ড. সিরাজুল হক। অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত ও পবিত্র বাইবেল পাঠের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়। পরে বাংলাদেশের জাতীয় সংগীত পরিবেশন এবং আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাকালীন নেতৃবৃন্দ ও মহান মুক্তিযুদ্ধে আত্মত্যাগকারী শহীদদের স্মরণ করা হয়।
আলোচনা সভায় বক্তারা আওয়ামী লীগের ৭৭ বছরের রাজনৈতিক ইতিহাস, দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে দলটির ভূমিকা, মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্ব, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলন এবং বাংলাদেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতিতে আওয়ামী লীগের অবদানের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। তারা বলেন, দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলায় আওয়ামী লীগ বহু প্রতিকূলতা মোকাবিলা করেও দেশের মানুষের অধিকার ও উন্নয়নের লক্ষ্যে কাজ করে গেছে। বক্তারা প্রবাসে অবস্থানরত নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ থেকে দেশের স্বার্থে ইতিবাচক ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।
প্রধান অতিথি অ্যাডভোকেট সানজিদা খানম তাঁর বক্তব্যে আওয়ামী লীগের গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস তুলে ধরে বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শ এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধারণ করেই দলটি প্রতিষ্ঠার পর থেকে দেশের মানুষের জন্য কাজ করে যাচ্ছে। তিনি প্রবাসী বাংলাদেশিদের দেশের উন্নয়ন ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ সমুন্নত রাখতে গঠনমূলক ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে তিনি প্রবাসে বসবাসরত নতুন প্রজন্মের কাছে বাংলাদেশের ইতিহাস ও মুক্তিযুদ্ধের সঠিক তথ্য তুলে ধরার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
সভাপতির বক্তব্যে ড. সিরাজুল হক বলেন, অস্ট্রেলিয়ায় বসবাসরত আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে পারস্পরিক সম্প্রীতি ও ঐক্য আরও সুদৃঢ় করতে এ ধরনের আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তিনি বলেন, সংগঠনের কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করতে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে এবং প্রবাসে বাংলাদেশের ইতিবাচক ভাবমূর্তি তুলে ধরতে হবে।
আলোচনা সভায় আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ এবং ছাত্রলীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা বক্তব্য দেন। তারা দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর তাৎপর্য তুলে ধরে ভবিষ্যতেও সংগঠনের কার্যক্রমকে আরও শক্তিশালী করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত নেতাকর্মীরা আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে একে অপরকে শুভেচ্ছা জানান এবং দলের উত্তরোত্তর সাফল্য কামনা করেন।
আলোচনা সভা শেষে এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে দেশাত্মবোধক গান, আবৃত্তি ও সংগীত পরিবেশনের মাধ্যমে বাংলাদেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য এবং সংস্কৃতিকে তুলে ধরা হয়। সাংস্কৃতিক পরিবেশনায় উপস্থিত অতিথি ও দর্শকরা মুগ্ধ হন এবং শিল্পীদের পরিবেশনা করতালির মাধ্যমে উপভোগ করেন।
অনুষ্ঠানটি সৌহার্দ্যপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন হয়। আয়োজকরা জানান, প্রবাসে জাতীয় ও রাজনৈতিক গুরুত্বপূর্ণ দিবসগুলো যথাযথ মর্যাদায় পালনের মাধ্যমে নতুন প্রজন্মের কাছে বাংলাদেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনা তুলে ধরার প্রচেষ্টা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।