
অনেকের কাছেই এক কাপ কফি ছাড়া দিনের শুরু কল্পনা করা কঠিন। তাৎক্ষণিকভাবে শরীরে চাঙ্গাভাব আনার পাশাপাশি কফি স্বাস্থ্যের জন্যও বিভিন্ন উপকার বয়ে আনতে পারে।
হার্ভার্ড ও স্ট্যানফোর্ডে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজিস্ট ডা. সৌরভ সেঠি সম্প্রতি ইনস্টাগ্রামে জানান, টানা দুই সপ্তাহ প্রতিদিন ব্ল্যাক কফি পান করলে শরীরে বেশ কিছু ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা যেতে পারে।
তার মতে, নিয়মিত কফি পান লিভারের স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী হতে পারে। এটি ফ্যাটি লিভার, ফাইব্রোসিস ও সিরোসিসের মতো রোগের ঝুঁকি কমাতে সহায়তা করতে পারে। যদিও কফি এসব রোগের চিকিৎসা নয়, তবে লিভারে ক্ষতিকর দাগযুক্ত টিস্যু জমা হওয়ার প্রবণতা কমাতে ভূমিকা রাখতে পারে।
ডা. সেঠি আরও বলেন, কফিতে থাকা ক্লোরোজেনিক অ্যাসিড ইনসুলিন সংবেদনশীলতা উন্নত করতে সহায়তা করতে পারে। এছাড়া বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, ব্ল্যাক কফি বিপাকক্রিয়া (মেটাবলিজম) বাড়াতে এবং চর্বি পোড়ানোর হার বৃদ্ধি করতে সাহায্য করতে পারে। একই সঙ্গে এটি প্রাকৃতিকভাবে ক্ষুধা কিছুটা দমন করে ক্যালোরি গ্রহণ নিয়ন্ত্রণেও সহায়ক হতে পারে।
কফিতে থাকা ক্যাফেইন মনোযোগ, সতর্কতা ও মানসিক কর্মক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে। যদিও এটি পর্যাপ্ত ঘুমের বিকল্প নয়, তবে প্রয়োজনের সময় মনোযোগ ধরে রাখতে সহায়ক হতে পারে।
এছাড়া কফি হজম প্রক্রিয়াতেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। এটি অন্ত্রের কার্যক্রম সক্রিয় করে মলত্যাগের প্রবণতা বাড়াতে সাহায্য করে। ক্লিভল্যান্ড ক্লিনিকের গবেষণা অনুযায়ী, প্রায় ২৯ শতাংশ কফি পানকারী কফি পান করার পর মলত্যাগের তাগিদ অনুভব করেন। এর একটি কারণ হলো, কফি গ্যাস্ট্রিন নামের হরমোনের মাত্রা বাড়াতে পারে।
তবে ইরিটেবল বাওয়েল সিনড্রোম (আইবিএস) আক্রান্ত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন ডা. সেঠি। তার মতে, কফি পেটে ব্যথা, ডায়রিয়া বা পেট ফাঁপার মতো উপসর্গ বাড়িয়ে দিতে পারে। তিনি প্রতিদিন এক থেকে তিন কাপ ব্ল্যাক কফি পান করার পরামর্শ দিলেও, কফি পান করলে যদি উদ্বেগ, হৃদস্পন্দন বেড়ে যাওয়া, অ্যাসিড রিফ্লাক্স বা ঘুমের সমস্যা দেখা দেয়, তাহলে এর পরিমাণ কমিয়ে দেওয়ার পরামর্শ দেন। পাশাপাশি অতিরিক্ত চিনি বা প্রক্রিয়াজাত ক্রিমার ব্যবহার এড়িয়ে চলারও পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।