News update
  • জলাবদ্ধতা ও ভূমিধসের শঙ্কায় চট্টগ্রামে প্রশাসনের সতর্কতা, প্রস্তুত ৮ আশ্রয়কেন্দ্র     |     
  • সংসদের অধিবেশন আগামীকাল বিকেল সাড়ে ৩টা পর্যন্ত মুলতবি     |     
  • পরীক্ষা জালিয়াতি রোধে কঠোর শাস্তি, পাবলিক পরীক্ষা আইন সংশোধন বিল পাস     |     
  • স্বাস্থ্য খাতের ঘাটতি চিহ্নিত করে তা সমাধানে কাজ করছে সরকার : ডা. জুবাইদা রহমান     |     
  • গণতন্ত্র শক্তিশালী করতে সহযোগিতার আশ্বাস যুক্তরাজ্যের     |     
প্রথম পাতা 2026-06-30, 10:00pm

চাকরির সুযোগ বাড়াতে স্থানীয় পর্যায়ে "এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জ" চালুর পরিকল্পনা

image-319586-1782801218-6077f0ee174cd168bbed59872b3a843b1782835202.jpg


চাকরি ও দক্ষতার মধ্যে সংযোগ স্থাপনের লক্ষ্যে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে ‘এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জ’ বা ‘কর্মসংস্থান বিনিময় কেন্দ্র’ চালুর পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। এর মাধ্যমে সারা দেশে বিদ্যমান দক্ষতার ঘাটতি কমানো এবং চাকরিপ্রার্থী ও নিয়োগদাতাদের মধ্যে কার্যকর সমন্বয় গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেট অনুযায়ী, আঞ্চলিক ও খাতভিত্তিক অর্থনীতিকে পুনরুজ্জীবিত করা এবং কর্মসংস্থানের পরিসর বাড়ানোর বৃহত্তর কৌশলের অংশ হিসেবেই এই উদ্যোগ বাস্তবায়নের পরিকল্পনা করা হয়েছে।

প্রস্তাবিত কর্মসূচির আওতায় জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে এসব এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জ স্থাপন করা হবে, যা স্থানীয় পর্যায়ে চাকরি ও দক্ষতার মিল ঘটানোর কেন্দ্র হিসেবে কাজ করবে। নিবন্ধিত চাকরিপ্রার্থীরা তাদের যোগ্যতা ও দক্ষতার ভিত্তিতে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শূন্য পদে নিয়োগ পেতে প্রয়োজনীয় সহায়তা পাবেন।

অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বাজেট বক্তৃতায় কর্মসংস্থান সৃষ্টিকে জাতীয় উন্নয়নের অন্যতম ভিত্তি হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ‘কাজ করব, দেশ গড়ব’ নীতির আলোকে খাতভিত্তিক কর্মসংস্থান সৃষ্টি সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।

তিনি আরও জানান, দেশজুড়ে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়িয়ে প্রতিটি পরিবারের স্বনির্ভরতা ও সমৃদ্ধি নিশ্চিত করাই সরকারের অঙ্গীকার।

প্রস্তাবিত কেন্দ্রগুলো শুধু চাকরির শূন্য পদের সঙ্গে সংযোগই তৈরি করবে না, বরং শ্রমবাজারের চাহিদা ও কর্মীদের দক্ষতার মধ্যকার ব্যবধানও কমিয়ে আনবে।

বাজেট বক্তব্য অনুযায়ী, কোনো চাকরিপ্রার্থীর প্রয়োজনীয় দক্ষতা না থাকলে তাকে এসব কেন্দ্রের মাধ্যমে উপযুক্ত প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানে পাঠানো হবে, যাতে দক্ষতা অর্জনের পর তার কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধি পায়।

কর্মসূচি বাস্তবায়নে ইতোমধ্যে প্রয়োজনীয় কর্মপরিকল্পনা ও নীতিগত কাঠামো তৈরির কাজ শুরু হয়েছে। পাশাপাশি কর্মসংস্থান সেবা ও দক্ষতা উন্নয়ন কার্যক্রমের মধ্যে সমন্বয় গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

এই উদ্যোগের যৌক্তিকতা তুলে ধরে অর্থমন্ত্রী বলেন, ন্যায্য ও মেধাভিত্তিক কর্মসংস্থান ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে দেশব্যাপী জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জ চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এখানে নিবন্ধিত প্রার্থীদের যোগ্যতা ও দক্ষতার ভিত্তিতে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শূন্য পদে নিয়োগে সহায়তা দেওয়া হবে।

শুধু বড় শহর নয়, কর্মসংস্থান সেবা প্রান্তিক পর্যায়েও পৌঁছে দিতে এই কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। এতে গ্রামীণ জনগোষ্ঠী, গৃহিণী এবং দীর্ঘদিন বেকার থাকা ব্যক্তিদের মতো প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণ বাড়ানোর ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে।

২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে ঘোষিত বৃহত্তর কর্মসংস্থান লক্ষ্যের সঙ্গেও এই উদ্যোগ সামঞ্জস্যপূর্ণ। সরকার তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রতি বছর ২ লাখ নতুন কর্মসংস্থান এবং কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে ফ্রিল্যান্সিং ও সৃজনশীল বিষয়ে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে ৮ লাখ পরোক্ষ কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে।

এই লক্ষ্য অর্জনে আইসিটি, রোবটিক্স ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসহ বিভিন্ন বিষয়ে কারিগরি ও বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ সম্প্রসারণ করা হবে, যাতে শিক্ষার্থীরা কর্মক্ষেত্রের জন্য প্রস্তুত হতে পারে।

এছাড়া তথ্যপ্রযুক্তি খাতে তরুণ ও নারী উদ্যোক্তাদের সহায়তায় ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে ৫০০ কোটি টাকার স্টার্টআপ তহবিল গঠনের প্রস্তাব রাখা হয়েছে।

উদ্যোগটির বৃহত্তর অর্থনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরে অর্থমন্ত্রী বলেন, অর্থনৈতিক কৌশলের মূল লক্ষ্য হলো সামষ্টিক স্থিতিশীলতা, বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, উৎপাদন বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং অর্থনৈতিক ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা। সমাজের সব স্তরে অর্থনৈতিক সুযোগ সম্প্রসারণের মাধ্যমে ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড কাজে লাগানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

নীতিগত কাঠামো ও বাস্তবায়ন পরিকল্পনা প্রণয়নের কাজ চলমান থাকায় জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের এই এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জগুলো কর্মসংস্থান সৃষ্টি, দক্ষতা উন্নয়ন এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনৈতিক অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হয়ে উঠবে বলে আশা করা হচ্ছে।